কুড়িগ্রাম:
বাংলাদেশের সর্বউত্তরে হিমালয় পাদদেশীয় সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত জেলা
কুড়িগ্রাম। এ জেলায় প্রকৃতিগতভাবে প্রতিবছরই লেগে থাকে বন্যা, খরা,
শৈতপ্রবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ২২ লাখ মানুষের এ জেলায় বিনোদনের জন্য গড়ে ওঠেনি তেমন কোনো নান্দনিক, মনমুগ্ধকর স্থাপত্য বা বিনোদন কেন্দ্র। শিশুদের
বিনোদনের জন্য নামে মাত্র ২টি পার্ক রয়েছে। তবে এ পার্ক ২টির দশা এমনই
বেহাল যে এখানে গরু-ছাগল চরে। তাই, অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে এখানে আসতে চান
না। সরেজমিন দেখা যায়, শিশুদের বিনোদনের জন্য দেড় যুগ আগে
কুড়িগ্রাম নতুন ও পুরাতন শহরে ২টি শিশু পার্ক গড়ে উঠলেও বর্তমানে এর বেহাল
দশা। পার্কের দোলনা, স্লিপার, ঢেকিসহ প্রতিটি খেলার সামগ্রী ভেঙে গেছে।
চুরি হয়ে গেছে দেওয়ালের গ্রিল।স্থানীয় অধিবাসী খাজা ইউনুস ঈদুল,
মনিরুল ইসলামসহ আরও অনেকে জানান, পার্ক ২টি বর্তমানে গো-চারণ ভূমিতে পরিণত
হয়েছে। শিশুরা পার্ক ২টিতে খেলতে এসে প্রায়ই নানা দুর্ঘটনার স্বীকার হয়।
শিশুদের নিরাপত্তার জন্য পার্ক ২টিতে নেই কোনো দারোয়ান বা নিরাপত্তাকর্মী।তারা
আরও জানান, দিন-দুপুরেই এ ২টি স্থানে চলে বখাটে আর মাদক সেবীদের আড্ডা।
সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারীদের ভয়ে ওই পার্কের সামনের রাস্তা দিয়েও কেউ যেতে
সাহস পান না।নেশাখোর আর বখাটেদের ভয়ে শিশুরা পার্ক ২টিতে খেলতে আসে
না। পার্ক ২টিতে খেলতে আসা শিশু অর্ণব (৭), তাসিন (৮) ও তানহা (৯) জানায়,
পার্কের খেলার সামগ্রীগুলোর বেহাল দশার কারণে তারা ঠিকমত খেলতে পারে না।
বখাটে এবং বড়দের আড্ডা থাকে সব সময়।
শিশুদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা
জানান, কর্ম ব্যস্ততার ফাঁকে কুড়িগ্রামবাসীর জন্য জেলায় কোনো বিনোদন
কেন্দ্র নেই, নেই কোনো বেড়াতে যাওয়ার জায়গা। শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকা
পার্ক ২টি খেলার অনুপযোগী। জরুরি ভিত্তিতে পার্কগুলো শিশুদের খেলার উপোযোগী
করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান তারা।তারা আরও
জানান, পার্ক ২টিতে বখাটে আর মাদক সেবীদের আড্ডার কারণে শিশুদের আনতে সাহস
হয় না। কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে শিশু পার্ক ২টি মেরামত ও মানোন্নয়ন করে
বিনোদন উপযোগী করলে শিশুরা আবারও পার্কে আসবে। বিকশিত হবে শিশুদের মানসিক
স্বাস্থ্য।কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল
ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, শহর জুড়ে আমাদের পুলিশি টহল জোড়দার রয়েছে। পার্ক
২টিতে কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কুড়িগ্রাম
পৌরসভার মেয়র নুর ইসলাম নুরু জানান, সময়ের সঙ্গে নাগরিক জীবনের অনেক
পরির্বতন হয়েছে। শহরে শিশুদের খেলাধুলা করার মতো মাঠ কমে গেছে। শিশুরা একটু
সময় পেলে ছুটে যায় পার্কে। এখানে আধুনিক খেলার সরঞ্জাম নেই। তার চেয়েও বড়
কথা যে সরঞ্জামগুলো রয়েছে তাও নষ্ট হয়ে গেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শিশু
পার্ক ২টি মেরামত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।