01 September, 2009

কুড়িগ্রামে সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ


কুড়িগ্রামের সাবেক সাংসদ ও মন্ত্রী তাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং তার ছোট ভাই সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করা হয়েছে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় দু'জন মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, নিরীহ গ্রামবাসীদের ঘরবাড়ি জ্বালানো ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সোমবার কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার বীর প্রতীক আব্দুল হাই সরকার।


অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেলী ফেরদৌস।

মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ঘটনার সময় উপস্থিত এলাকার লোকজন এবং তার কোম্পানির অধীন মুক্তিযোদ্ধাদের।

তাজুল ইসলাম চৌধুরী কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাংসদ এবং এরশাদ সরকারের সময় ভূমিমন্ত্রী ছিলেন।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, অভিযোগটি জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও চৌধুরী সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুজন মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, নিরীহ মানুষের বাড়িঘর পোড়ানো এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ গোপনে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও চৌধুরী সফিকুল ইসলামের বাবা মৃত পনির উদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে কুড়িগ্রামে পিস কমিটি গঠিত হয়েছিল। দুই ভাইয়ের সহযোগিতায় গঠিত হয়েছিল রাজাকার বাহিনী। তাজুল ইসলাম ও তার বাবা মোগলবাসা এলাকায় দুই শতাধিক নিরীহ গ্রামবাসীর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। ডোমাস চন্দ্র ও আব্দুল করিম নামের দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়াও তাদের নেতৃত্বে কাঠালবাড়ি গণহত্যা ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগনামায় আরও বলা হয়, তাজুলের ইসলামের ছোটভাই সফিকুল ইসলাম যুদ্ধের সময় ছিলেন রৌমারী ও মানকার চর এলাকায়। সেখান থেকে গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে পাঠাতেন। স্বাধীনতার পর আব্দুল হাই সরকারকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের পরিচয়পত্র লিখিয়ে নেন।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেলী ফেরদৌস বলেন, "অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত করার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ